২৩শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং | ১০ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ৬ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

শিরোনাম :

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের পথচলা

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের পথচলা

 

এস কে সেলিম রেজা, প্রকাশক ও সম্পাদক, টাইমসবাংলা টুয়েন্টিফোর.কম

টাইমস বাংলা ২৪.কম/নিউজ | সম্পাদকীয় |

 

আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। বাঁধভাঙা আনন্দের দিন। বাঙালি জাতির জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের দিনটি আজ।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃতে নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে বিকেলে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও রাজনীতি, বাঙালির ঐতিহাসিক বিবর্তন ধারায়, একটি ভৌগোলিক সীমারেখায় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাঙালির হাজার বছরের আশা-আকাঙ্ক্ষা  বেদনা-বিক্ষোভ ও আবহমান বাংলার ঐতিহ্যকে তিনি নিজের চেতনায় আত্মস্থ করেছেন। তার কণ্ঠে বাঙালি জাতির সার্বিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় প্রতিধ্বনিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মূর্ত প্রতীক। তিনি বিশ্ব শান্তি আন্দোলনের অন্যতম সেনানী এবং সমকালীন বিশ্বের মানবজাতির মুক্তিসংগ্রামে নিবেদিত প্রাণ উৎসর্গীকৃত সন্তানদের একজন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। বাঙালি জাতীয়তাকে বঙ্গবন্ধু আমাদের চিন্তা-চেতনা ও মননে গেঁথে দিয়েছেন। আমাদের বিস্মৃত জাতিসত্তাকে তিনি জাগ্রত করেছেন। 

‘বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু অবিচ্ছেদ্য’। বক্তারা যখন বলেন ‘এ নেতার জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না,’ তখন মনে হতে পারে এ উক্তি অতিশয়োক্তি। প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান ঐতিহাসিক সত্য। আবার যখন বলা বা লেখা হয় ‘সর্বযুগের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমান…’ তখন সর্বকালের বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া প্রয়োজন। 

যুগ যুগ ধরে মুজিবের রাজনৈতিক জীবন ও চিন্তা-ভাবনাকে প্রভাবিত করেছে। যদি তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেখানো হয়, তাহলে বাংলার হাজার বছরের ইতিহাসে তার স্থান নির্ণয় দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। একইভাবে বঙ্গবন্ধুকে যদি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়, তাহলেও বাংলাদেশের আবহমান ঐতিহ্য-সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা অস্বীকার করতে হয়। আজকের স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র বহু আগে থেকেই নিরন্তর বিবর্তনের মধ্য দিয়ে রূপ পেয়েছে।

এ বিবর্তনের সঙ্গে বাঙালি ও বাংলাদেশের ইতিহাস অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

 

বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণের দিন।

পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ, নিপীড়ন আর দুঃশাসনের জাল ভেদ করে ১৯৭১ সালের এই দিনে বিজয়ের প্রভাতী সূর্যের আলোয় ঝিকমিক করে উঠেছিল বাংলাদেশের শিশির ভেজা মাটি। অবসান হয়েছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর সাড়ে তেইশ বছরের নির্বিচার শোষণ, বঞ্চনা আর নির্যাতনের কালো অধ্যায়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনের জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখিয়ে পাকিস্তানিরা ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার জন্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভকারী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে টালবাহানা শুরু করে শাসক গোষ্ঠী। ফলে ক্ষোভে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান।

যে অস্ত্র দিয়ে বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী দীর্ঘ নয় মাস ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা করেছে, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছে সেই অস্ত্র পায়ের কাছে নামিয়ে রেখে একরাশ হতাশা এবং অপমানের গ্লানি নিয়ে বাঙালির কাছে পরাজয় মেনে নেয় তারা।

সেই থেকে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালিত হয়ে আসছে। এবার বিজয়ের ৪৬ তম বার্ষিকী উদযাপন করছে বাংলাদেশ। বিশ্বের বুকে সৃষ্টি হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

 

টাইমসবাংলা টুয়েন্টিফোর.কম/নিউজ

www.timesbangla24.com/ timesbangla24.news.

facebook.com/timesbangla24.news

 

 

শনিবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৭